1. alomgirmondol261@gmail.com : দৈনিক আজকের খোলা কাগজ :
শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীকের নির্দেশে রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জ বাজারের পূর্বপাশে পানি নিষ্কাশনে পাকা ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন নিয়ামতপুরে ষষ্ঠ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহন কর্মকর্তাদের প্রশিণ কর্মশালা জাল সনদ কেনা ব্যক্তিদের তালিকা পেয়েছে ডিবি রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই লোহাগড়ায় সাবেক চেয়ারম্যানকে গুলি করে খুন খাদ্যমন্ত্রীর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেশ চন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু, খাদ্যমন্ত্রী শোক প্রকাশ মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব ঠেকাতে সংসদকে ইসির চিঠি অভিযোগ পেলেই ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বাদ: ইসি আলমগীর নওগাঁর নিয়ামতপুরে সংবাদ প্রকাশের পর খাল খনন কাজ পরিদর্শনে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গভীর নলকূাপ অপারেটরের স্বেচ্ছাচারিতা, অতিরিক্ত টাকা আদায় সত্তে¡ও নিয়ামতপুরে পানির অভাবে পুড়ছে ধান, পুড়ছে কৃষকের কপাল

বাহুবলে জাতীয় তথ্য বাতায়নে হালনাগাদ নেই, ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার অধিকাংশ সরকারি ওয়েবসাইটে নেই হালনাগাদ তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে এসব ওয়েবসাইট আপডেটবিহীন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অথচ ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল নিয়ে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের প্রচারণার কমতি নেই। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সম্প্রতি কোনো তথ্য, সেবা, পরিষেবা, আপডেট সিটিজেন চার্ট, খবর, নোটিশ পাওয়া যায় না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশে ঘরে বসে সহজেই তথ্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাহুবল বাসী।
যেকোনো তথ্য আদান প্রদানে অনলাইনকে বেছে নিয়েছে দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষেরা। এমনকি সরকারি অফিস আদালত ও প্রাইভেট প্রতিষ্টানগুলোতে অনলাইনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
অফিসিয়াল তথ্য পাওয়ার বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকার ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশের সকল জেলা উপজেলাকে অনলাইনের আওতায় এনেছেন।

উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একজন সহকারী প্রোগ্রামার থাকলেও গতি পাচ্ছে না পোর্টাল হালনাগাদ করায়। ফলে তথ্যভান্ডারটির সঠিক ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার একটি মাধ্যম হিসেবে এই প্রকল্পে সরকারের নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ‘তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক’ এই প্রতিপাদ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটা করে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উদ্‌যাপন করা হলেও নজর নেই জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্যের ঘাটতি পূরণ বা তথ্য হালনাগাদের দিকে।
জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা ডিজিটাল প্রযুক্তি বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি প্রচেষ্টার অংশহিসেবে চালু করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। দেশের নাগরিকেরা কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, পর্যটন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি, গেজেট, সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সনদ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তালিকা, জনপ্রতিনিধিদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সব তথ্যই এই ওয়েবপোর্টাল থেকে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিটি নাগরিকের তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই জাতীয় বাতায়ন করা হয়েছে। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকার ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও এটুআই প্রোগ্রামের নেতৃত্ব এবং তত্ত্বাবধানে এই বাতায়নের যাত্রা শুরু হয়।
কিন্তু শুধু বাহুবল উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব পোর্টালটি ঘেঁটে দেখা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য আপডেট থাকলেও যেসব তথ্য বা সরকারি পরিষেবার কথা উল্লেখ থাকার কথা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটের সব মেন্যু বা সাব-মেন্যুতে গিয়ে শতভাগ তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব পোর্টালটির আওতাধীন উপজেলা, সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৩৪টি সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট রয়েছে। তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম থাকার কথা থাকলেও উপজেলা প্রশাসনসহ ওয়েবপোর্টালটির আওতাধীন কোনো দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের হোমপেজ বা মূল পাতাটি খুললেই কভার ফটোতে থাকা দুটি ছবির মধ্যে শুধু একটি ছবিতে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভবনের ছবি রয়েছে। উপজেলায় একাধিক প্রর্দশনীক জায়গা থাকলেও বাকি একটি ছবি পূর্ববর্তী সময়ের রাবার বাগানের ছবি রয়েছে।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়েবপোর্টালে কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সেবার তালিকা, যোগাযোগের কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা ভূমি অফিস, বাহুবল মডেল থানা, কৃষি অফিস ইত্যাদি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সেবার তালিকা বা অন্য তথ্য খুঁজে পাওয়া গেলেও বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েবপোর্টালে ডা. বাবুল কুমারের নাম ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা, ডাক্তারের নাম বা অন্য কোনো তথ্য বা সেবার তালিকা পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নাম থাকলেও আপলোড করা নেই তাঁদের কোনো তথ্য। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে লেখা রয়েছে, ‘অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) এর গোপনীয় শাখা।’ এমনকি উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের তথ্যও সেখানে হালনাগাদ করা নেই। এছাড়া উপজেলায় কলেজ তিন থাকলেও ওয়েবসাইটে একটি কলেজর নাম রয়েছে।
তবে তথ্য বাতায়নে নেই হালনাগাদ কোনো তথ্য। এছাড়া দপ্তরের কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য, বিভিন্ন সভার কার্যবিবরণী, উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য নেই অধিকাংশ ক্যাটাগরিতে। তাই এখনো প্রয়োজনের স্বার্থে সেবাপ্রার্থীদের ছুটতে হচ্ছে দপ্তরে দপ্তরে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময় ও অর্থ।
কিন্তু বাহুবল উপজেলার সরকারি পোর্টালগুলোতে সরকারের উন্নয়নমূলক সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য অনলাইনে না পাওয়াকে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবকে দায়ী করেছেন সচেতন মহল।
বাহুবল উপজেলা তথ্য বাতায়নের পোর্টাল ভিজিট করে দেখা গেছে, এ বছরের আগস্ট মাসে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন মশিউর রহমান। কিন্তু বাহুবল উপজেলা তথ্য বাতায়নে শোভা পাচ্ছে পূর্ববর্তী ওসি রাকিবুল ইসলাম খাঁনের নাম। আর ছবি রয়েছে আগের ওসি রাকিবুল ইসলাম খাঁনের । অথচ তিনি বদলি হয়েছেন প্রায় তিন মাস আগে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও রয়েছে একই তথ্য ও চিত্র। যার নাম রয়েছে তিনি বাহুবল উপজেলা থেকে অনেক আগে বদলি হয়ে গেছেন।
উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এস এম টিপু সুলতান বলেন, ‘উপজেলা তথ্য বাতায়নের তথ্যগুলো হালনাগাদ না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে যে তথ্য প্রয়োজন হয় সেগুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘প্রতিটি দপ্তরের তথ্য হালনাগাদের দায়িত্ব স্ব স্ব দপ্তরের। তবে কোনো দপ্তরের তথ্য আমাকে হালনাগাদ করতে বললে আমি তা করে দিই।’
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত হালনাগাদ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো প্রশিক্ষণ করিয়েছি। প্রশিক্ষণে আমরা সংশ্লিষ্টদের দেখিয়ে দিই কীভাবে ওয়েবপোর্টালে তথ্য আপলোড দিতে হবে, হালনাগাদ করতে হবে, সে অনুযায়ী তাঁদের দপ্তরের কার্যক্রমের তথ্য হালনাগাদ করার কথা।’ এছাড়া যারা ওয়েব সাইটে তথ্য হালনাগাদ করেনি সে বিষয়ে সভাপতি উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে রিপোর্ট করা হবে।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া শারমিন ফাতেমা বলেন, ‘ ‘আমি এখানে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, আপডেট করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও আপডেট করা হবে।’ আমার ওয়েব সাইট হালনাগাদ করা আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’ যে যার দপ্তর থেকে এগুলো হালনাগাদ করবে। প্রতিটি দপ্তরকে আলাদা আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। তাই তথ্য বাতায়নের কাজটি নিজ নিজ দপ্তর আপডেট করে থাকে। নিয়মিত তথ্য আপডেট না থাকায় তিনি প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের তথ্য আপডেট করতে তাগাদা দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট